সরকারের আয়ের প্রধান উৎস হতে পারে বাড়িভাড়া খাত

সরকারের আয়ের প্রধান উৎস হতে পারে বাড়িভাড়া খাত। যে কোন দেশে সেই দেশের সরকার যে-কোন বিষয়ের উপর বৈধ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা রাখে। বাংলাদেশে বাড়িভাড়া আদায়ে নানা অনিয়ম আছে। এর মধ্যে একটি হল, বাড়িভাড়া নেয়ার মুহূর্তেই মালিক কর্তৃক অগ্রিম গ্রহণ। বাস্তবে সবার আর্থিক সামর্থ্য সমান থাকে না। এই অগ্রিম প্রদানের সময় একসাথে অনেক টাকার বোঝা বহন করতে হয় ভাড়াটিয়াকে।

ইচ্ছে  করলে সরকার বাড়িভাড়া তদারকির যাবতীয় 
বিষয়টি নিজের হাতে নিয়ে নিতে পারে।
এমনভাবে নেয়া উচিত,যাতে ভাড়াটিয়া ও মালিক
উভয়পক্ষের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং উভয়ই নির্ঝঞ্ঝাট,
ঝামেলামুক্ত থাকতে পারে।
এটি সরকার কিভাবে বাস্তবায়ন করতে করতে পারে, সে ব্যাপারে কিছু বলা যাক।

১)মালিক কর্তৃক অগ্রিম গ্রহণ বন্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হোক।
২)সারাদেশে ভাড়া দেয়া হয় এমন বাড়ি, দোকানপাট, কমিউনিটি সেন্টার,আবাসিক হোটেলগুলোর উপর একটি জরিপ পরিচালনা করা হোক।
৩)জরিপকৃত দোকান বা বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা ইউনিটগুলোর শুধুমাত্র আয়তনকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে ভাড়া নির্ধারণ করা হোক।
৪) ভাড়া নির্ধারণ পদ্ধতিটি হবে সরকার কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত। কোন্ বাড়ির কোন্ ইউনিটের ভাড়া কত, তার বিবরণ যে কেউ ইচ্ছে করলে যাতে অনলাইনে দেখতে পারে, সে সুযোগ রাখা হোক।
৫) বাড়িভাড়া দিতে ইচ্ছুক প্রত্যেক মালিককে নিবন্ধিত করা হোক। বাধ্যতামূলক সেই নিবন্ধনের আওতায় প্রত্যেক মালিককে একটি নিবন্ধন অর্থাৎ রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেয়া হোক।
৬) নিবন্ধিত মালিকের ঐ রেজিস্ট্রেশন নম্বরে ঢুকলে বাড়ির ফ্ল্যাট- ইউনিটের বর্ণনা অনলাইনে সচিত্র দেখার ব্যবস্থা রাখা হোক।
৭) আয়কর প্রদান ফরমে মালিকের নিবন্ধিত ঐ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের একটি ঘর রাখা যায়। এতে মালিকের আয়ের স্বচ্ছতা সম্পর্কে সরকার ধারণা পাবে।
৮)ভাড়াটিয়ার জন্য একটি অস্থায়ী সাময়িক নম্বর প্রদানের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। এছাড়াও ভাড়া দেয়ার সময় ভাড়াটিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র ( NID) নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, আয়কর নম্বরের তথ্য মালিক সংরক্ষণ করবেন এবং অনলাইনে মালিক তা যুক্ত করবেন।
৯) ভাড়া প্রদান ও গ্রহণে সরকারিভাবে ছাপানো রশিদ বই( Receipt book) প্রদান করা যায়। যেমনটি আছে গ্যাসবিল পরিশোধের জন্য রশিদ বই।বাড়িভাড়া সংক্রান্ত ১০০/২০০পাতার রশিদ বইটি সরকার ছেপে মালিককে সরবরাহ করতে পারে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে। আবার সবটুকুকে ইচ্ছে করলে অনলাইন ফরমেটেও সাজানো যেতে পারে।
১০) ভাড়াটে ভাড়া বাবদ প্রদানকৃত অর্থ মালিকের নিবন্ধিত নম্বরে মাস বিগত হওয়ার পর পরের মাসের ১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে সরাসরি ব্যাংকে বা অনলাইনে বা বিকাশের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধ করতে পারে, এমন ব্যবস্থা রাখা যায়।
১১)ভাড়াটিয়া কর্তৃক পরিশোধিত অর্থ মালিক ঐ মাসের ১৬ থেকে শেষ তারিখের মধ্যে ইচ্ছে করলে ওঠাতে পারবেন।
১২) মালিক টাকা ওঠাক আর নাই ওঠাক জমাকৃত ঐ প্রতিমাসের ভাড়ার ন্যূনতম নির্দিষ্ট একটি অংশ সরকারি কোষাগারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে।
১৩) বাড়িভাড়া দেয়ার পরও যদি কোনরকম স্বচ্ছতার ঘাটতি বা সরকার কর্তৃক ধার্যকৃত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় করা হয় বা যেকোন তথ্য গোপন রাখা হয়, তবে মালিক বা ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পথ খোলা রাখা হোক।
১৪) সরকার সবসময় দুর্বলের সহায়।তাই মালিক-ভাড়াটিয়ার যে কোন দ্বন্দ্বে, তা মামলা পর্যন্ত গড়ালে তাতে সরকার সব সময় ভাড়াটিয়ার পক্ষে বাদি হয়ে লড়বেন, এমন ব্যবস্থা থাকলে ভাল।
১৫) বর্তমান নিয়মে বাসার মালিক প্রতিবছর অন্তত একবার এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে একাধিকবার বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করে থাকেন। যেহেতু বাড়ি নির্মাণের পর থেকে বাড়িটি দিনকে দিন পুরনো হয়, তাই বাড়িনির্মাণের পর নির্দিষ্ট করে দেয়া বছর পর্যন্ত বর্তমান ভাড়াবৃদ্ধির করার রেওয়াজের বদলে প্রতিবছর ১% বা ২% হারে ভাড়াহ্রাস পদ্ধতি প্রচলন করা হোক। এর মাধ্যমে ভাড়াটিয়ার অনুকূলে জনস্বার্থ অধিক সুরক্ষিত হবে।
১৬) সরকার কর্তৃক বাড়িভাড়া রেগুলেটরি বোর্ড করে নিলে ভাল হয়।
১৭) বাড়িভাড়া সংক্রান্ত আলাদা একটি মনিটরিং সেল করা যায়, যাতে মাঝেমাঝে সরেজমিনে সত্যতা- অসত্যতা যাচাইয়ের সুবিধা হবে।
১৮) ভাড়াটিয়ার উপর কোনরকম ভ্যাট (VAT) জাতীয় কর না চাপানো হয়, সে ব্যবস্থা রাখা হোক।

সর্বোপরি বাড়িভাড়া দেয়া ও নেয়ার উপর সরকার যদি 
সরাসরি সরকারি তত্ত্বাবধান প্রতিষ্ঠা করতে পারে,
তবে সরকারের আয়ের প্রধান উৎস হতে পারে বাড়িভাড়া খাত।
সরাসরি এই নজরদারির ফলে অভ্যন্তরীণ জাতীয় নিরাপত্তা বৃদ্ধি
পাবে।যাবতীয় জনস্বার্থ অধিক সুরক্ষা পাবে।
পাশাপাশি মালিক ও ভাড়াটিয়া উভয়পক্ষের সর্বাধিক
স্বস্তির কারণ হবে বলে বিশ্বাস করি।