সরকারের আয়ের প্রধান উৎস হতে পারে বাড়িভাড়া খাত

সরকারের আয়ের প্রধান উৎস হতে পারে বাড়িভাড়া খাত। যে কোন দেশে সেই দেশের সরকার যে-কোন বিষয়ের উপর বৈধ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা রাখে। বাংলাদেশে বাড়িভাড়া আদায়ে নানা অনিয়ম আছে। এর মধ্যে একটি হল, বাড়িভাড়া নেয়ার মুহূর্তেই মালিক কর্তৃক অগ্রিম গ্রহণ। বাস্তবে সবার আর্থিক সামর্থ্য সমান থাকে না। এই অগ্রিম প্রদানের সময় একসাথে অনেক টাকার বোঝা বহন করতে হয় ভাড়াটিয়াকে।

ইচ্ছে  করলে সরকার বাড়িভাড়া তদারকির যাবতীয় 
বিষয়টি নিজের হাতে নিয়ে নিতে পারে।
এমনভাবে নেয়া উচিত,যাতে ভাড়াটিয়া ও মালিক
উভয়পক্ষের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পায় এবং উভয়ই নির্ঝঞ্ঝাট,
ঝামেলামুক্ত থাকতে পারে।
এটি সরকার কিভাবে বাস্তবায়ন করতে করতে পারে, সে ব্যাপারে কিছু বলা যাক।

১)মালিক কর্তৃক অগ্রিম গ্রহণ বন্ধ করার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হোক।
২)সারাদেশে ভাড়া দেয়া হয় এমন বাড়ি, দোকানপাট, কমিউনিটি সেন্টার,আবাসিক হোটেলগুলোর উপর একটি জরিপ পরিচালনা করা হোক।
৩)জরিপকৃত দোকান বা বাড়ি বা ফ্ল্যাট বা ইউনিটগুলোর শুধুমাত্র আয়তনকে স্ট্যান্ডার্ড ধরে ভাড়া নির্ধারণ করা হোক।
৪) ভাড়া নির্ধারণ পদ্ধতিটি হবে সরকার কর্তৃক পূর্বনির্ধারিত। কোন্ বাড়ির কোন্ ইউনিটের ভাড়া কত, তার বিবরণ যে কেউ ইচ্ছে করলে যাতে অনলাইনে দেখতে পারে, সে সুযোগ রাখা হোক।
৫) বাড়িভাড়া দিতে ইচ্ছুক প্রত্যেক মালিককে নিবন্ধিত করা হোক। বাধ্যতামূলক সেই নিবন্ধনের আওতায় প্রত্যেক মালিককে একটি নিবন্ধন অর্থাৎ রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেয়া হোক।
৬) নিবন্ধিত মালিকের ঐ রেজিস্ট্রেশন নম্বরে ঢুকলে বাড়ির ফ্ল্যাট- ইউনিটের বর্ণনা অনলাইনে সচিত্র দেখার ব্যবস্থা রাখা হোক।
৭) আয়কর প্রদান ফরমে মালিকের নিবন্ধিত ঐ রেজিস্ট্রেশন নম্বরের একটি ঘর রাখা যায়। এতে মালিকের আয়ের স্বচ্ছতা সম্পর্কে সরকার ধারণা পাবে।
৮)ভাড়াটিয়ার জন্য একটি অস্থায়ী সাময়িক নম্বর প্রদানের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। এছাড়াও ভাড়া দেয়ার সময় ভাড়াটিয়ার জাতীয় পরিচয়পত্র ( NID) নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, আয়কর নম্বরের তথ্য মালিক সংরক্ষণ করবেন এবং অনলাইনে মালিক তা যুক্ত করবেন।
৯) ভাড়া প্রদান ও গ্রহণে সরকারিভাবে ছাপানো রশিদ বই( Receipt book) প্রদান করা যায়। যেমনটি আছে গ্যাসবিল পরিশোধের জন্য রশিদ বই।বাড়িভাড়া সংক্রান্ত ১০০/২০০পাতার রশিদ বইটি সরকার ছেপে মালিককে সরবরাহ করতে পারে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে। আবার সবটুকুকে ইচ্ছে করলে অনলাইন ফরমেটেও সাজানো যেতে পারে।
১০) ভাড়াটে ভাড়া বাবদ প্রদানকৃত অর্থ মালিকের নিবন্ধিত নম্বরে মাস বিগত হওয়ার পর পরের মাসের ১ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে সরাসরি ব্যাংকে বা অনলাইনে বা বিকাশের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিশোধ করতে পারে, এমন ব্যবস্থা রাখা যায়।
১১)ভাড়াটিয়া কর্তৃক পরিশোধিত অর্থ মালিক ঐ মাসের ১৬ থেকে শেষ তারিখের মধ্যে ইচ্ছে করলে ওঠাতে পারবেন।
১২) মালিক টাকা ওঠাক আর নাই ওঠাক জমাকৃত ঐ প্রতিমাসের ভাড়ার ন্যূনতম নির্দিষ্ট একটি অংশ সরকারি কোষাগারে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জমা হবে।
১৩) বাড়িভাড়া দেয়ার পরও যদি কোনরকম স্বচ্ছতার ঘাটতি বা সরকার কর্তৃক ধার্যকৃত ভাড়ার অতিরিক্ত আদায় করা হয় বা যেকোন তথ্য গোপন রাখা হয়, তবে মালিক বা ভাড়াটিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পথ খোলা রাখা হোক।
১৪) সরকার সবসময় দুর্বলের সহায়।তাই মালিক-ভাড়াটিয়ার যে কোন দ্বন্দ্বে, তা মামলা পর্যন্ত গড়ালে তাতে সরকার সব সময় ভাড়াটিয়ার পক্ষে বাদি হয়ে লড়বেন, এমন ব্যবস্থা থাকলে ভাল।
১৫) বর্তমান নিয়মে বাসার মালিক প্রতিবছর অন্তত একবার এমনকি কোন কোন ক্ষেত্রে একাধিকবার বাড়িভাড়া বৃদ্ধি করে থাকেন। যেহেতু বাড়ি নির্মাণের পর থেকে বাড়িটি দিনকে দিন পুরনো হয়, তাই বাড়িনির্মাণের পর নির্দিষ্ট করে দেয়া বছর পর্যন্ত বর্তমান ভাড়াবৃদ্ধির করার রেওয়াজের বদলে প্রতিবছর ১% বা ২% হারে ভাড়াহ্রাস পদ্ধতি প্রচলন করা হোক। এর মাধ্যমে ভাড়াটিয়ার অনুকূলে জনস্বার্থ অধিক সুরক্ষিত হবে।
১৬) সরকার কর্তৃক বাড়িভাড়া রেগুলেটরি বোর্ড করে নিলে ভাল হয়।
১৭) বাড়িভাড়া সংক্রান্ত আলাদা একটি মনিটরিং সেল করা যায়, যাতে মাঝেমাঝে সরেজমিনে সত্যতা- অসত্যতা যাচাইয়ের সুবিধা হবে।
১৮) ভাড়াটিয়ার উপর কোনরকম ভ্যাট (VAT) জাতীয় কর না চাপানো হয়, সে ব্যবস্থা রাখা হোক।

সর্বোপরি বাড়িভাড়া দেয়া ও নেয়ার উপর সরকার যদি 
সরাসরি সরকারি তত্ত্বাবধান প্রতিষ্ঠা করতে পারে,
তবে সরকারের আয়ের প্রধান উৎস হতে পারে বাড়িভাড়া খাত।
সরাসরি এই নজরদারির ফলে অভ্যন্তরীণ জাতীয় নিরাপত্তা বৃদ্ধি
পাবে।যাবতীয় জনস্বার্থ অধিক সুরক্ষা পাবে।
পাশাপাশি মালিক ও ভাড়াটিয়া উভয়পক্ষের সর্বাধিক
স্বস্তির কারণ হবে বলে বিশ্বাস করি।

Causes and treatment of ingrown toenail

Causes of Ingrown ToenailsAnyone can get an ingrown toenail. They occur in both men and women. Ingrown toenails may be slightly more common in teenagers, who tend to have sweatier feet. Older people may also be at higher risk, because toenails thicken with age.

Many things can cause an ingrown toenail. Common causes include:

.      cutting toenails incorrectly (the toenail should be cut straight across —angling the sides of the nail can encourage the nail to grow into the skin)

·       irregular, curved toenails

·       footwear that places a lot of pressure on the big toes (pressure can be from shoes that are too tight, narrow, or flat for your feet; socks and stockings that are too tight can also lead to ingrown toenails)

·       toenail injury

·       poor posture

Early-stage symptoms include:

·       skin next to the nail becomes tender, swollen, or hard

·       pressure on the toe is painful

·       fluid builds up around toe

If your toe becomes infected, symptoms may include:

·       red, swollen skin

·       pain

·       bleeding

·       oozing pus

·       overgrowth of skin around toe  Ingrown Toenails Diagnosis

Your doctor will most likely be able to diagnose your toe with a physical exam. If your toe seems infected, you might need an X-ray. This can show how deep the nail is. An X-ray may also be taken if:

·       Your ingrown nail was caused by injury.

·       You have a history of chronic infections.

·       Your pain is severe.

Treatment Options for Ingrown Toenails

Ingrown toenails that are not infected can normally be treated at home. However, if the toenail has pierced the skin or there is any sign of infection, it is a good idea to seek medical treatment. Signs of infection include:

·       warmth

·       pus

·       redness and swelling

Home Treatment

To treat an ingrown toenail at home, try:

·       soaking feet in warm water three to four times a day

·       pushing skin away from the toenail edge with a cotton ball soaked in olive oil

·       using over-the-counter medicines, like acetaminophen (Tylenol), for the pain

·       applying a topical antibiotic to prevent infection

If the toenail does not respond to home treatments, you may need surgery.

Surgical Treatment

There are several ways that surgery can be used to treat an ingrown toenail. Partial nail removal removes only the piece of nail that is digging into your skin. Your toe will be numbed. Then your doctor will narrow the toenail. Partial nail removal is 98 percent  effective for preventing future ingrown toenails.

The sides will be cut away so that the edges are completely straight. A piece of cotton will be placed under the remaining portion of the nail to keep the ingrown toenail from reoccurring. Your doctor may also treat your toe with a compound called phenol. This keeps the nail from growing back.

Total nail removal may be used if your ingrown nail is caused by thickening.The doctor will give you a local pain injection and then remove the entire nail.

After Surgery

Your doctor will send you home with your toe bandaged. You will probably need to keep your foot raised for the next one to two days. Try to avoid as much movement as possible. Your bandage is usually removed on day two. Your doctor will advise you to wear open-toe shoes and to do daily saltwater soaks until your toe heals. You will also be prescribed pain relief medication and antibiotics to prevent infection.

Dr.Jyoti Joyanta 

 

Pakoras are mouthwatering dish during this rainy season with a cup of hot tea

Mouth watering pakoras are yet another dish that is a must have during the rainy season. A cup of hot tea and a plate of pakoras are an unbeatable combination during the rainy season. You can choose from various kinds of pakoras like potato pakora, paneer pakora, green chili pakora and it goes on. Having said that avoid having street side pakoras during monsoon, instead try to prepare it at home It may be a little consuming but its going to be worth it. And also as it is a fried food do not over indulge in it, once in awhile is a good option.
Chips, Samosas and kachoris: Imagine its raining cats and dogs outside and you are serve with a ate of hot chips, delicious samosas, lip smacking kachoris with a creamy and spicy dip to go with it. Sounds really good isn’t it? These easy to prepare food are good to binge on once in awhile and also leaves you with a filed tummy and a happy heart.

Foods to be avoided during monsoon

These are just the suggestions but the decision is yours. To stay healthy and fit and to enjoy every moment one needs to take better care of themselves. So eat healthy, stay fit and enjoy life!!!!!!

Try not to have sea foods like fish, prawns, crabs etc until and unless they are fresh. As it is the breeding season for these creatures you may end up having stomach infections or worse food poisoning. It is always good to choose for vegetarian diet during the rainy season.
Stay away from outside food. The damp streets and the pits filled with stagnant waters acts as a breeding place for the mosquitoes and other insects. thus leading to diseases like malaria, dengue etc. In such case resorting to homemade hygiene food is advisable.
Try including a lot of veggies in your diet. Monsoon is a season of ill health as well. The nutrient sin these veggies will help you stay healthy and fit. Go for green salads, as it will make you feel full and keep you from unwanted food carvings. Before using the vegetables wash it clean with salt and warm water. This will help in removing dirt and unseen organisms from the vegetables.

আনন্দ মোহন বসু -স্বপন পাল

শিক্ষাবিদ, সমাজ সংস্কারক, ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতির পথপ্রদর্শক ও প্রথম র‌্যাংলার আনন্দমোহন বসু। শিক্ষার নগর ময়মনসিংহে  শত বছরের অধিককাল ধরে আলো ছড়ানো প্রধান প্রতিষ্ঠানের নাম আনন্দমোহন কলেজ। এই কলেজটির সাথে যে মানুষটির নাম জ্বলজ্বল করছে, তিনি হলেন আনন্দমোহন বসু। আনন্দমোহন বসু যে শুধু শিক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন বলেই তাঁর নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এমনটি ভাবলে উনার কর্মকে শুধু খাটো করাই হবেনা, ইতিহাসের অনেককিছুই অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। এবং আমাদের অজানা থেকে যাবে ইতিহাসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ  অধ্যায়,যা জানা না থাকলে, আমরা আমাদেরকেই বঞ্চিত করবো এক আলোছড়ানো কীর্তিমান মানুষের দীপ্তি থেকে। উনি শিক্ষায় অসামান্য অবদান রাখার পাশাপাশি সমাজ, রাজনীতি, নারীর অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। আমরা এটা জানি যে,, ‘ইতিহাস হলো মানুষের আত্ম-আবিষ্কারের ইতিকথা’। তাই নিজেকে আবিস্কারের পর্যায়ে আরো একটু এগিয়ে নিতেই, এই মানুষটি সম্পর্কে কৌতুহলী হয়েছিলাম।  আনন্দমোহন বসু ময়মনসিংহ বিভাগের কিশোরগঞ্জ জেলার (তৎকালীন ময়মনসিংহ জেলা) ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি গ্রামের এক ভূস্বামী পরিবারে ১৮৪৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। পিতা পদ্মলোচন বসু ও মাতা উমা কিশোরী দেবী। পিতা পদ্মলোচন বসু ছিলেন ময়মনসিংহ জজ আদালতের পেশকার। শিক্ষাজীবন ময়মনসিংহের ‘হার্ডিঞ্জ বঙ্গ বিদ্যালয়’এ আনন্দমোহন বসু’র শিক্ষা জীবন শুরু হয় এবং এখান থেকে ছাত্রবৃত্তি লাভ করে ময়মনসিংহ জিলা স্কুলে ভর্তি হন। ১৮৬২ সালে তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মিলিত মেধা তালিকায় নবম স্থান অধিকার করেন এবং প্রথম শ্রেণীর বৃত্তি লাভ করেন। এরপর কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে এফএ, বিএ এবং এমএ পরীক্ষায় প্রথম স্থান লাভ করে উত্তীর্ণ হন। এম এ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে গনিত বিষয়ে অধ্যাপনায় যোগ দেন। প্রেসিডেন্সি কলেজে অধ্যাপনা করাকালীন পরের বছর ‘প্রেমচাঁদ-রায়চাঁদ’ ছাত্রবৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে দশ হাজার টাকা বৃত্তি লাভ করেন।  এই বৃত্তি পাওয়ার সুবাদে ইংল্যান্ডে উচ্চতর শিক্ষাগ্রহণের পথ প্রশস্ত হয় তাঁর।  তিনি ইংল্যান্ডে ক্যাম্ব্রিজ এর ক্রাইস্ট চার্চ কলেজে উচ্চতর গণিত বিষয়ে লেখাপড়া করেন। ১৮৭৪ সালে সেখানে গণিত বিষয়ক সর্বোচ্চ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে তিনটি বিষয়ে প্রথম শ্রেণি অর্থাৎ সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে ‘র‌্যাংলার’ (তৎকালীন ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম) উপাধি লাভ করেন আনন্দমোহন বসু। একই বছর বার-এট-ল ডিগ্রি লাভ করে দেশে ফিরে আসেন এবং আইন পেশায় যোগ দেন। এর পূর্বেই ছাত্রাবস্থায় তিনি ময়মনসিংহ জিলা স্কুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষক ভগবান চন্দ্র বসুর কন্যা এবং বিজ্ঞানাচার্য জগদীশ চন্দ্র বসুর বোন স্বর্ণপ্রভা দেবীকে বিয়ে করেন।  
সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আনন্দমোহন বসুঃ ইংল্যান্ডে যাওয়ার আগে ১৮৬৯ সালে সস্ত্রীক ব্রাহ্ম ধর্মমতে দীক্ষিত হন আনন্দমোহন বসু । দেশে ফিরে কেশবচন্দ্র সেনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় ব্রাহ্মসমাজের সাথে যুক্ত হন এবং ভারতীয় ব্রাহ্মসমাজ পরিচালিত বিভিন্ন ধর্মীয় ও সমাজ সংস্কার আন্দোলনে নিজেকে নিয়োজিত করেন। ১৮৭৮ সালে নানা বিষয়কে কেন্দ্র করে ভারতীয় ব্রাহ্মসমাজের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। বিরোধের বিষয়গুলোর অন্যতম একটি ছিল কেশবচন্দ্র সেনের নাবালিকা মেয়ের সঙ্গে কুচবিহারের নাবালক মহারাজার বিয়ে। এ ক্ষেত্রে আনন্দমোহন ভিন্ন মতাবলম্বীদের নেতৃত্ব দেন এবং সাধারণ ব্রাহ্মসমাজ নামে ব্রাহ্মসমাজের একটি নতুন ও প্রগতিশীল ধারা প্রতিষ্ঠা করেন।সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের প্রথম সভাপতি নির্বাচিত হন তিনি। এর কর্মকাণ্ড ব্যবস্থাপনা ও আন্দোলনকে যথাযথভাবে এগিযে় নিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর নেতৃত্বে সংগঠনের একটি গঠনতন্ত্র প্রণীত হয় এবং সংগঠনের মধ্যে গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়। ১৩ বছর  তিনি এই সংগঠনের সভাপতি ছিলেন। এ সময়ে ব্রাহ্মসমাজের অনেকগুলো সহযোগী প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এরমধ্যে ব্রাহ্ম ছাত্রদের শারীরিক প্রশিক্ষণ ও নৈতিক বিকাশের জন্য তাঁর ঘনিষ্ঠতম সহযোগী পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রীর সহযোগিতায় ‘স্টুডেন্টস উইকলি সার্ভিস’ নামে একটি নৈতিক শিক্ষা কোর্স চালু করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তিনিই ছিলেন এ বিষযে়র বক্তা। তাঁর উদ্যোগে ব্রাহ্ম মন্দিরের একটি পাকা ভবন তৈরি হয়। রাজনীতির ক্ষেত্রে আনন্দমোহনের দুটি উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। তিনিই সর্বপ্রথম উপলব্ধি করেন, ঔপনিবেশিক পরিমণ্ডলে সমাজের সর্বাপেক্ষা সচেতন শ্রেণী ছাত্র সমাজকে অবশ্যই দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে গঠনমূলক ভৃমিকা পালন করতে হবে এবং সে লক্ষ্যে তাদের নিজস্ব একটি সংগঠন থাকা উচিত। এ উদ্দেশ্য পূরণের জন্য ১৮৭৫ সালে কলিকাতায় ‘স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি এর প্রথম সভাপতি হন।  তাঁর নিজ শহর ময়মনসিংহেও এর শাখা প্রতিষ্ঠিত হয়। পরের বছর একান্ত বন্ধু সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীসহ আরো কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর সাথে মিলে ভারত উপমহাদেশের প্রথম জাতীয়তাবাদী সংগঠন হিসেবে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’ বা ‘ভারত সভা’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল দেশব্যাপী রাজনৈতিক সচেতনতা বাড়ানো এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন পরিচালিত করা। ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’এর প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন যথাক্রমে  সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জী এবং আনন্দমোহন বসু। পর্যায়ক্রমে এর কার্যধারায় দেশব্যাপী রাজনৈতিক আলোড়ন তৈরি হয় এবং এরই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৫ সালে ‘ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস’র যাত্রা শুরু হয়। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস’র প্রতিষ্ঠাকালে সুরেন্দ্রনাথ ব্যানার্জীর সঙ্গে অসামান্য অবদান রাখেন আনন্দমোহন বসু । ১৮৯৮ সালে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের চতুর্দশ অধিবেশনে তিনি এই সংগঠনের সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে ১৮৯৫ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস’র বঙ্গ প্রদেশের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি। আনন্দমোহন বসু ১৮৮৫-৮৭ এবং ১৮৯৫-৯৭, ১৯০০ সালে বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তৎকালীন ব্রিটিশ শাসকের রাজনৈতিক অপকৌশল  ‘বঙ্গভঙ্গ’র তীব্র বিরোধিতা করেন আনন্দমোহন বসু এবং প্রচন্ড শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর ‘বঙ্গভঙ্গ’ কার্যকর করার দিনে কলিকাতায় অনুষ্ঠিত বঙ্গভঙ্গবিরোধী এক বিশাল জনসভায় সভাপতিত্ব করে ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেন তিনি ।শিক্ষাক্ষেত্রে  আনন্দমোহন বসুঃসমাজ সংস্কারক ও শিক্ষাবিদ হিসেবে আনন্দমোহন বসুর রয়েছে বিশেষ অবদান । নারীশিক্ষা ও সমাজ থেকে নিরক্ষরতা দূর করার জন্য সামাজিক কর্মসূচি প্রণয়ন করতে তিনি সকলকে উদাত্ত আহ্বান জানান। ১৮৭৬ সালে কলকাতায় ‘বঙ্গ মহিলা বিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠা করে ভারতীয় নারীদের উচ্চ শিক্ষায় অংশগ্রহণের পথের সূচনা করে  এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেন আনন্দমোহন বসু । পরে তিনি বিদ্যালয়টিকে বিখ্যাত ‘বেথুন স্কুল’র সঙ্গে একীভূত করেন। ১৮৭৯ সালে কলকাতায় সিটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করেন।  ময়মনসিংহের পৈত্রিক বাড়িতে সিটি কলেজের একটি শাখা স্থাপন করেন, যা কালক্রমে স্থানান্তরিত হয়ে বর্তমানে ‘আনন্দমোহন কলেজ’ নামে পরিচিত।  সফল শিক্ষাজীবন ও শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগের কারণে ব্রিটিশ সরকার তাকে ১৮৮২ সালে ইন্ডিয়ান এডুকেশন কমিশনের (হান্টার কমিশন) সদস্য করে। এর পর একে একে বঙ্গীয় আইনসভার সদস্য, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য ও ‘ফেলো’ মনোনীত হন তিনি। তাঁর চেষ্টায় ‘ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি অ্যাক্ট অব ইনকরপোরেশন’ সংশোধন করা হয়। এতে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরীক্ষা গ্রহণকারী সংস্থা থেকে পরীক্ষা গ্রহণকারী ও শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। ১৮৯২ সালের ভারত আইনের অধীনে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গীয় আইন পরিষদে একজন সদস্য নির্বাচন করার অধিকার পায়। আনন্দমোহন বসু ছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বঙ্গীয় আইন পরিষদে প্রথম প্রতিনিধি।আনন্দমোহন বসু এবং আনন্দমোহন কলেজনিজ এলাকায় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ব্যারিস্টার আনন্দমোহন বসু ১৮৮৩ সালে ১ জানুয়ারি ময়মনসিংহ শহরের রাম বাবু রোডস্থ তাঁর পৈত্রিক বাড়িতে প্রতিষ্ঠা করেন ময়মনসিংহ ইনস্টিটিওশন (বর্তমান ‘সিটি কলেজিয়েট স্কুল’)। প্রতিষ্ঠাকালে এ বিদ্যালয়ে শহরের সর্বাধিক ছয়শত নয়জন ছাত্র ছিল। ময়মনসিংহে কোন কলেজ না থাকায় ১৮৯৯ সালে ‘ময়মনসিংহ সভা’ ও আঞ্জুমানিয়া ইসলামিয়া’ আনন্দমোহন বসুর কাছে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবী জানায়। এ দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা সিটি কলেজ কাউন্সিলের তৎকালীন সভাপতি আনন্দমোহন বসু ১৯০১ সনের ১৮ জুলাই  ‘সিটি স্কুল’টিকে দ্বিতীয় শ্রেণীর কলেজে উন্নীত করেন এবং এবং একে কলকাতার সিটি কলেজের সাথে যুক্ত করেন। প্রাথমিক অবস্থায়  কলিকাতা সিটি কলেজ কাউন্সিলের আর্থিক সহযোগিতায় ময়মনসিংহ সিটি কলেজ পরিচালিত হতো, পরের বছর ১৯০২ সালের এপ্রিল মাসে এটি কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক দ্বিতীয় গ্রেডের কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ইতোমধ্যে স্থানীয় অধিবাসীদের অর্থ সাহায্যে কলেজের পুরোবাগে রাস্তার পাশে কলেজের জন্য পাকা ভবন নির্মিত হয়।১৯০৬ সালে আনন্দমোহন বসুর মৃত্যুর পর ময়মনসিংহ সিটি কলেজ নানা সংকটের সম্মুখীন হয়। প্রথমত কলকাতা সিটি কলেজ কাউন্সিল অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে ময়মনসিংহ সিটি কলেজকে কলকাতার সিটি কলেজ থেকে বিযুক্তকরণের জন্য কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকট দাবী পেশ করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১৯০৮ সালের ৩১ মার্চ কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক কলিকাতা সিটি কলেজ থেকে ময়মসসিংহ সিটি কলেজের সংযুক্তি সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এই অবস্থায় কলেজের কার্যক্রম এক প্রকার বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। সেই সময়কার প্রিন্সিপাল বৈকুন্ঠনাথ চক্রবর্তী কলেজটি পুনর্গঠনের উদ্যোগে নেন এবং তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মি. জে. আর. ব্ল্যাকউডের শরণাপন্ন হন। মি. জে. আর. ব্ল্যাকউডের স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও উদ্যমী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি নতুন কমিটি গঠন করে ‘ময়মনসিংহ কলেজ’ নামে কলেজটিকে পুনুজ্জবীত করেন। এ কমিটি কলেজের পরিচালনা ও যাবতীয় খরচের দায়িত্ব গ্রহণ করে এবং কলেজের জন্য তহবিল ও নতুন জায়গা সংগ্রহের জোরালো প্রয়াস চালায়। তৎকালীন ভারত সরকারের গ্রান্ট-ইন-এইড এর আওতায় অর্থ সাহায্য প্রাপ্তির জন্য বিভাগীয় কমিশনার এর সাথে কমিটি সাক্ষাৎ করে।বিভাগীয় কমিশানার কলেজের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য ৫৫,০০০/-(পঞ্চান্ন হাজার) টাকা বরাদ্দ দেন। পাশাপাশি কলেজের সার্বিক উন্নতির জন্য স্থানীয় কয়েকজন জমিদার ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিগতভাবে ১,১৮,৩৯৫/- (এক লক্ষ আঠার হাজার তিনশত পঁচানব্বই) টাকা এককালীন অনুদান প্রদান করেন। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের মধ্যে ছিলেন-মহারাজা শশীকান্ত আচার্য্য চৌধুরী (মুক্তাগাছা), রাজা যোগেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরী (রামগোপালপুর), রাণী দিনমনি চৌধুরাণী (সন্তোষ), বাবু হেমচন্দ্র চৌধুরী (আম্বারিয়া), রাজা জগতকিশোর রায় চৌধুরী (গৌরীপুর), বাবু প্রমথনাথ রায় চৌধুরী (সন্তোষ), রাণী হেমন্ত কুমারী দেবী (পুটিয়া), শ্রীমতি বামা সুন্দরী দেবী (ভবানীপুর) প্রমুখ। আনন্দমোহন কলেজ প্রতিষ্ঠায় যাঁর ভূমিকা খুবই উল্লেখযোগ্য তিনি হলেন, ময়মনসিংহ জেলার প্রথম মুসলিম গ্র্যাজুয়েট, আইনজীবী, আনন্দমোহন বসুর কলিকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের সহপাঠী বন্ধু, আঞ্জুমানে ইসলামিয়া এর সভাপতি ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মৌলভী হামিদ উদ্দিন আহমদ। তিনি কলেজের জন্য কাঁচিঝুলীতে ২৬ বিঘা জমি প্রদান করেন এবং বন্ধু আনন্দমোহন বসুর নামে কলেজটির নামকরণের প্রস্তাব করেন। মৌলভী হামিদ উদ্দিন ছাড়াও তাঁর জমির পাশ্ববর্তী আরো কয়েক বিঘা জায়গা স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ কলেজের জন্য দান করেন। সরকারি-বেসরকারি নানা উৎস থেকে সংগৃহীত অর্থ এবং জমি পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে কলেজটি বর্তমান স্থানে স্থানান্তরের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। নতুন ভবন নির্মানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি করে ১৯০৮ সালের শেষের দিকে ‘ময়মনসিংহ কলেজ’ এর নাম পরিবর্তন করে মৌলভী হামিদ উদ্দিন আহমদ এর প্রস্তাবমতো কলেজের প্রকৃত প্রতিষ্ঠাতা আনন্দমোহন বসুর নামানুসারে ‘আনন্দ মোহন কলেজ’ রাখা হয় এবং শিক্ষা কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হয়। কয়েক বছরের মধ্যেই এটি প্রথম শ্রেণীর একটি কলেজে উন্নীত হয়। ফলে ১৯১৪ সালে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এটিকে প্রথম গ্রেডের কলেজ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। কালের পরিক্রমায় আজো স্বমহিমায় বাংলাদেশের তথা ভারতীয় উপমহাদেশের একটি অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আনন্দমোহন কলেজ ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। 
নারীর অগ্রযাত্রায় আনন্দমোহন বসু’র অবদানঃপশ্চাদপদ নারীদের মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কয়েকজন শিক্ষানুরাগীর সহযোগিতায় ১৮৭৬ সালে কলিকাতায় স্থাপন করেন ‘বঙ্গমহিলা মহাবিদ্যালয়। যা পরে বেথুন স্কুলের সঙ্গে  একীভুত হয়। আনন্দমোহন বসু ও দুর্গামোহন দাসের ঐকান্তিক চেষ্টায় বেথুন স্কুলের সর্বোচ্চ শ্রেণীর দু’ছাত্রী কাদম্বিনী বসু ও সরলা দাস কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষ টেস্ট পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এন্ট্রান্স পরীক্ষা দেবার উপযুক্ত বিবেচিত হন। ১৮৭৮ সালে কাদম্বিনী বসু প্রথম এন্ট্রান্স পাস মহিলা হবার গৌরব অর্জন করেন। এর ফলে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নারী শিক্ষার দ্বার উন্মোচিত হয়। পরবর্তীতে কাদম্বিনী বসু চিকিৎসা শাস্ত্রে অধ্যয়ন করে মেডিসিন ও সার্জারিতে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং কলিকাতায় একজন সফল চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত হয়েছিলেন। আনন্দমোহন বসু কলিকাতায় ‘ব্রাহ্ম বালিকা বিদ্যালয়’র একজন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন।  কেবল তাই নয়, আনন্দমোহন বসু, দ্বারকানাথ গাঙ্গুলী, দুর্গামোহন দাস, শিবনাথ শাস্ত্রী প্রমুখের আন্দোলনে ১৮৭৮ সালের ২৭ এপ্রিল কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট নারীর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি লাভের দাবি মেনে নেয় এবং ১৮৮২ সালে কাদম্বিনী বসু ও চন্দ্রমুখী বসু প্রথম মহিলা স্নাতক হবার সম্মান অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি ‘বেঙ্গল প্রভিনসিয়াল কমিটি’র মাধ্যমে ১৮৮১-৮২ সালে ছাত্রীদের জন্য হোস্টেল স্থাপনের ব্যবস্থা করেন।প্রগতিশীল সমাজকর্মী, নিবেদিত প্রাণ শিক্ষানুরাগী, বিচক্ষণ কর্মযোগী, উপমহাদেশে জাতীয়তাবাদী রাজনীতর পথ প্রদর্শক হিসেবে বঙ্গীয় রেনেসাঁর উত্তরণে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন আনন্দমোহন বসু, যার মধ্য দিয়ে তিনি যথার্থই হয়ে উঠেছেন কালোত্তীর্ণ এক মানুষ।১৯০৬ সালের ২০ আগস্ট (বাংলা ১৩১৩ সনের ৪ ভাদ্র) সোমবার সূর্যাস্তের সময় কলিকাতাস্থ আপার সার্কুলার রোডের আচার্য বিজ্ঞানী জগদ্বীশ চন্দ্র বসুর বাড়ীতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই ক্ষণজন্মা মানুষটি। তার মৃত্যু পরবর্তী অবস্থার কিছু বিবরণ বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর লিখা থেকে তুলে ধরা হলো। ‘’তাঁহার শোকে সংবাদপত্রে, সভামধ্যে, রাজপথে, অন্তঃপুরে যে ক্রন্দধ্বনি উঠিয়াছিল, লেখনী তাহা বর্ণনা করিতে অক্ষম। অন্তিম শয্যা হইতে গঙ্গাতীর পর্যন্ত তাঁহার শবদেহের শ্মশান-যাত্রা কাব্যের এক করুণ অধ্যায় পূর্ণ করিবার যোগ্য। স্থানে স্থানে মহিলাগণের সভা, সর্বত্র ছাত্রগণের অধিবেশন ও বালকগণের কাতর রোদন, বালিকাগণের অশ্রুপাত আনন্দমোহনের প্রতি দেশের যে কি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ছিল, তাহা প্রতিপন্ন করিয়াছে।‘’  আনন্দমোহন বসু’র প্রয়াণ দিবসে আমাদের অতল শ্রদ্ধা। এ বছর বাংলা একাডেমির একুশে বই মেলায় আনন্দমোহন বসু’র উপর ‘আনন্দমোহন বসুঃ,ইতিহাসের অপ্রকাশিত অধ্যায়’ শিরোনামে একটি বই প্রকাশিত হয়। এই কীর্তিমান মানুষ সম্পর্কে আর জানতে চাইলে আগ্রহী ব্যক্তিগন সেটি সংগ্রহ করতে পারেন। -স্বপন পাল