বাংলা

চাণক্যের ১১ শ্লোকই কর্মক্ষেত্রে বাঁচাবে আপনাকে

চাণক্যের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার কাহিনী ঐতিহাসিক কাল থেকেই লোকমুখে প্রসিদ্ধ। তাঁর কালজয়ী অর্থশাস্ত্রের অসংখ্য শ্লোকে উচ্চারিত হয়েছে নানা পর্যবেক্ষণ ও উপদেশ যা বর্তমানেও সমান প্রাসঙ্গিক। চাণক্যের অমূল্য পরামর্শ হালের কর্পোরেট দুনিয়ার কর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

১) কর্মক্ষেত্রে ঠোঁটকাটাদের বিশেষ কদর নেই। কর্তৃপক্ষের মুখের উপর সব সময় সত্যি কথা বললে ফল উল্টো হতে পারে। বরং কূটবুদ্ধির সাহায্যে উপরওয়ালাকে খুশি করে কাজ আদায় করে নেওয়াই বিধেয়।

২) অফিসে সারাদিন প্রচণ্ড পরিশ্রম করে কাজ সারায় কোনও কৃতিত্ব নেই। তুখোড় কর্মী তিনিই, যিনি ফল বিচার করে কাজ করেন। না হলে মানুষ আর গাধার মধ্যে আর কী তফাত্‍ থাকে?

৩) তা বলে হাড়ভাঙা খাটুনির কোনও দাম নেই, এই কথাও ঠিক নয়। বুদ্ধিদীপ্ত কাজের মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ কর্মী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা দরকার।

৪) কর্মস্থলে বন্ধু থাকা ভালো। তবে সেই বন্ধুত্ব কখনওই স্বার্থহীন হয় না। সহকর্মীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলাপচারিতার সময় সতর্ক থাকতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, এমন কোনও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস না হয়ে যায় যার সুবাদে অফিসে ভবিষ্যতে কোণঠাসা হতে হয়।

৫) সব সময় কড়া হলেই অধঃস্তন কর্মীদের থেকে কাজ আদায় করা যায় না। কাজের কথার ফাঁকে ফাঁকে এমন কিছু হাল্কা চালের কথাও প্রয়োজন যা অফিসের গুরুগম্ভীর পরিবেশ কিছুটা হাল্কা করে। স্বস্তিতে কাজ করতে পারলে কাজের গুণগত মানও ভালো হয়।

৬) অফিসে কোনও প্রেজেন্টেশন দেওয়ার সময় আপনি কি নার্ভাস বোধ করেন? অথবা বসকে কোনও আইডিয়া দিতে গিয়ে তোতলামির অভ্যাস আছে? চাণক্য জানাচ্ছেন, ভয় আমাদের গোপন শত্রু। অভীষ্ট ও আপনার মাঝে সে দেওয়ালের মতো মাথা তুলে থাকে। ভয়কে পাত্তা না দিয়ে ‘যা হবার হবে’ মনে রেখে এগিয়ে যান। সাফল্য আসবেই।

৭) প্রতিযোগিতা যদি কঠিন হয়, আপনাকে তাহলে কঠিনতর হতে হবে। চেষ্টা করতে হবে, দৌড় শুরু হওয়ার আগেই যেন কিছুটা এগিয়ে থাকা যায়। কর্পোরেট জগতে টিকে থাকতে গেলে এই অভ্যাস রপ্ত করতে হবে।

৮) আপনি যে কাজের মানুষ, খোশগল্পে না মজে চটপট কাজ সেরে অফিস থেকে বের হওয়ায় বিশ্বাসী, সহকর্মীদের এই বার্তা দিতে হবে। অত্যধিক নরম ভাব দেখালে অনেক সুযোগসন্ধানী উল্টে মাথায় চড়ে বসে হেনস্থা করতে পারে।

৯) বুদ্ধিমানদের সামনে চালাকি করার আগে দু’বার ভেবে দেখুন। ধরুন ইন্টারভিউ-তে তুখোড় কোনও কর্তা প্রশ্ন করছেন, তাঁকে ইমপ্রেস করার জন্য মিথ্যা কথা বলা মারাত্মক ভুল হবে। বেশির ভাগ সময়েই তাতে ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে এবং চাকরি হাতছাড়া হয়।

১০) অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নিন। কর্মক্ষেত্রে এই সুযোগ হারানো অনুচিত। তবে মনে রাখতে হবে, ভুল যেন অন্যেরই হয়, আপনার নয়। এই শিক্ষা উন্নতির সিঁড়ি বেয়ে ওঠার জন্য অব্যর্থ।

১১) সহকর্মীদের নিজের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। অর্থাত্‍ কেউ ভুল করলে তাঁকে শুধরে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন, বিপদে সাহায্যও করতে পারেন। কিন্তু সব সময় তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করবেন না। এতে কর্তৃপক্ষের কোপে পড়ার পাশাপাশি সহকর্মীদের কাছেও অপদস্থ হতে পারেন।